প্রবাস বন্ধু সৃজনশীল প্রশ্ন
বাংলা দশম শ্রেণি
১. এমন স্নিগ্ধ নদী কাহার, কোথায় এমন ধূম্র-পাহাড়
কোথায় এমন হরিৎক্ষেত্র আকাশতলে মেশে।
এমন ধানের ওপর ঢেউ খেলে যায় বাতাস কাহার দেশে।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানি সে-যে আমার জন্মভূমি।
ক. অধ্যক্ষ জিরার কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
খ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমানকে ‘নরদানব’ বলা হয়েছে কেন?
গ. উদ্দীপকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমানের চেতনার যে দিকটিকে ধারণ করে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. বিষয় বর্ণনায় সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপক ও ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির মধ্যে রয়েছে বিস্তর বৈপরীত্য’ তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
১নং প্রশ্নের উত্তরঃ
ক. অধ্যক্ষ জিরার ফ্রান্সের অধিবাসী ছিলেন।
খ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমানকে ‘নরদানব’ বলা হয়েছে তার শারীরিক গঠনের জন্য। আবদুর রহমানের উচ্চতা ছয় ফুট চার ইঞ্চি। দুই হাত হাঁটু পর্যন্ত নেমে এসেছে। তার পায়ে সাইজ ডিঙি নৌকার মতো। কাঁধ এত চওড়া যে লেখকের মনে হয় সে বাদশা আবদুর রহমান হলে গোটা আফগানিস্তানের ভার বইতে পারত। এ কান ও কান জোড়া মুখ। এবড়ো-থেবড়ো নাক-কপাল নেই। তার এমন শারীরিক গঠনের জন্য লেখকের মনে হয় সে মানুষ নয়, কোনো বিশালদেহী ভয়ংকর জন্তু। এ কারণেই তাকে ‘নরদানব’ বলা হয়।
গ. উদ্দীপকটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমানের স্বদেশ চেতনার দিক ধারণ করে। স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা প্রত্যেকের মধ্যেই বিরাজ করে। প্রত্যেক মানুষের কাছেই তার স্বদেশ সব থেকে সেরা। যে দেশে তার জন্ম, বেড়ে ওঠা সে জায়গাকে তার কাছে পৃথিবীর সেরা মনে হয়। জন্মভূমির প্রতি এ ভালোবাসা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। উদ্দীপকের কবি তাঁর স্বদেশের বর্ণনা দিয়েছেন। নদী, পাহাড়, ধানের উপর ঢেউ খেলানো বাতাস প্রভৃতি বর্ণনা করে তাঁর দেশটিকেই শ্রেষ্ঠ বলে বর্ণনা দিয়েছে। লেখক শীতকালটা তার দেশে কাটাবে শুনে আবদুর রহমান খুশি হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির স্বদেশচেতনার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. উদ্দীপক এবং ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির মধ্যে প্রেক্ষাপটগত বৈপরীত্য দেখা যায়। প্রকৃতি মানুষের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। মানুষ প্রকৃতির মাঝে খুঁজে নেয় নিজেকে। প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকে মানুষের সত্তা। তাই প্রকৃতির পরিচয় থেকেও নির্দিষ্ট কোনো জাতির পরিচয় পাওয়াটা অস্বাভাবিক ককিছু নয়। উদ্দীপকে বাংলাদেশের স্নিগ্ধ প্রকৃতির সন্ধান মেলে। প্রকৃতি তার বৈচিত্র্যে কীভাবে স্বতন্ত্র তার প্রকাশ ঘটেছে এখানে। প্রকৃতির অপার মহিমা ও সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে উদ্দীপকের চরণগুলোতে।
অপরদিকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের পরিচয়ই আমরা পাই না, বরং আফগানিস্তানের সংস্কার, তাদের পোশাক,
জীবনপ্রণালি সবকিছুর পরিচয় পাই। লেখক যেন পুরো আফগানিস্তানের দৃশ্য তাঁর বর্ণনার মধ্যে চিত্রায়িত করেছেন। উদ্দীপকে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা পাওয়া গেলেও আলোচ্য রচনায় আমরা নির্দিষ্ট দেশ ও জাতি সম্পর্কে আরও অনেক তথ্য পাই। এই তথ্যগুলো আমাদেরকে কাহিনিটি পাঠ করে ভালোভাবে বুঝতে সহযোগিতা করে।
তাই আমরা বলতে পারি, বিষয় বর্ণনার সাদৃশ্য দেখা গেলেও প্রেক্ষাপটের দিক থেকে উদ্দীপক এবং ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির মধ্যে রয়েছে বিস্তর বৈপরীত।
২. একটি সাধারণ সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে গড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ লোক গৃহকর্মী বা চাকরের ওপর নির্ভরশীল। এদের বয়সভেদে শিশু হতে বৃদ্ধ পর্যন্ত রয়েছে। ব্যস্ততম জীবনে নগরবাসীর অন্যতম প্রয়োজন গৃহকর্মী। এদের মাঝে স্বল্পসংখ্যক স্থায়ীভাবে কাজ করে। এরা মূলত গৃহকর্তার বাসায় প্রায় সকল কাজই করে থাকে। আবার বেশিরভাগই অস্থায়ী ভিত্তিতেও কাজ করে। তবে কিশোর হতে যুবা বয়সীরা অনেকেই চাকরিদাতার কাছে মানসিক এবং শারীরিকভাবে নিপীড়িত হয়, যার হার প্রায় ৫২ শতাংশ। এই হারে উদ্বিগ্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলো। মানবাধিকার রক্ষায় এদের আরও বেশি সামাজিক নিশ্চয়তা প্রদান করা উচিত বলে বোদ্ধাগণ মনে করেন।
ক. অধ্যক্ষ জিরার কোন জাতিভুক্ত?
খ. লেখকের মতে আবদুর রহমানের চেহারা কেন আফগান রিলিফ ম্যাপসদৃশ?
গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমান ও উদ্দীপকের গৃহকর্মীর মাঝে কী সাদৃশ্য বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “চাকরিদাতা হিসেবে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির লেখক ও উদ্দীপকের নিয়োগদাতা ভিন্ন মানসিকতাসম্পন্ন” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
২নং প্রশ্নের উত্তরঃ
ক. অধ্যক্ষ জিরার জাতে ফরাসি।
খ. লেখকের মতে, আফগানিস্তানের অতি শীতল আবহাওয়াই আবদুর রহমানের রিলিফ ম্যাপসদৃশ চেহারার জন্য দায়ী। আবদুর রহমানের মুখের চামড়া চিরে ফেড়ে গেছে শীতে-গ্রীষ্মে। রিলিফ দেওয়ার ম্যাপে
বিভিন্ন চিহ্নিত স্থান যেমন উঁচু-নিচু দেখায়, আবহাওয়ার কারণে আবদুর রহমানের চেহারাও তেমন অবস্থা ধারণ করেছে। আবদুর রহমান সাধারণ এক আফগান। তার দৃষ্টিতে এই চেহারাই সঠিক। কিন্তু বাঙালি লেখকের
অভ্যস্ত দৃষ্টিসীমার বাইরে তার চেহারার বর্ণনা কিছুটা কৌতুকের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে।
গ. জীবিকার তাগিদে নিয়োগকর্তার সমূহ কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার দিক থেকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমান ও উদ্দীপকের গৃহকর্মীর মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান। মানুষ বেঁচে থাকার প্রয়োজনে বিভিন্ন জীবিকা অবলম্বন করে। আদিম সময় থেকেই মানুষ তার চেয়ে সম্পন্ন ব্যক্তির কাজ করে দিয়ে নিজ নিজ জীবিকার সংস্থান করে। এই দিক থেকে প্রায় প্রত্যেক মানুষই কর্মী। ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমান
লেখকের জন্য সকল কাজের কাজি। সে লেখকের জন্য রান্না থেকে আরম্ভ করে হাট-বাজার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার সব কাজ করে। লেখকের কাজ করেই সে তার জীবিকা নির্বাহ করে। উদ্দীপকের
গৃহকর্মীরাও নিজ নিজ নিয়োগদাতার জন্য কাজ করে থাকে। ব্যস্ত নগরজীবনে মানুষ অনেকাংশেই গৃহকর্মীর ওপর নির্ভরশীল। তারা সবাই নিজের অথবা পরিবারের চাহিদা পূরণ করার জন্য এই জীবিকা বেছে নিয়েছে। এই জীবিকার দিক থেকেই ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে
আবদুর রহমান ও উদ্দীপকের গৃহকর্মীর মধ্যে সাদৃশ্য দেখা যায়।
ঘ. “চাকরিদাতা হিসেবে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির লেখক ও উদ্দীপকের নিয়োগদাতা ভিন্ন মানসিকতাসম্পন্ন” মন্তব্যটি যথার্থ। মানুষ জীবিকার
জন্য একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। মানুষভেদে নিয়োগদাতা ভিন্ন চারিত্রিক স্বভাবের হয়। কেউ কেউ কর্মীর প্রতি সহানুভ‚তিশীল হলেও বেশিরভাগই কঠোর মানসিকতা পোষণ করে। ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমান বলেখকের গৃহকর্মী। তার বিভিন্ন ধরনের কাজে লেখক অবাক, হতবাক এবং বিরক্ত হলেও তার প্রতি কঠোর কোনো ব্যবহার করেননি, বরং বেশিরভাগ সময়ে কৌতুকের সঙ্গে মন্তব্য ছুড়ে দিয়েছেন। অপরদিকে উদ্দীপকে দেখা যায়, গৃহকর্মীদের মাঝে শতকরা ৫২ জন তার নিয়োগদাতার হাতে নিপীড়িত হয়। এই নিপীড়ন শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের হয়, যা মানবাধিকার হরণ করে।
‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে লেখক আবদুর রহমানের প্রতি সহানুভূতিশীল, যেখানে উদ্দীপকের ৫২ শতাংশ নিয়োগদাতা অত্যাচার করে গৃহকর্মীকে। তাই বলা যায়, চাকরিদাতা হিসেবে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির লেখক ভিন্ন মানসিকতাসম্পন্ন। সুতরাং মন্তব্যটি যথাযথ।