পরিবর্তক দ্রব্য এবং পরিপূরক দ্রব্য কাকে বলে?

পরিবর্তক দ্রব্য কাকে বলে?
পরিপূরক দ্রব্য কাকে বলে?

কোন দ্রব্যের চাহিদা সম্পর্কিত দ্রব্যের দাম দ্বারাও প্রভাবিত হয়। সম্পর্কিত দ্রব্য আবার দুই প্রকারের হতে পারে : 

(১) পরিবর্তক দ্রব্য (২) পরিপূরক দ্রব্য

পরিবর্তক দ্রব্য

যখন দুটি দ্রব্যের মধ্যে একটিকে অপরটির পরিবর্তে ব্যবহার করা যায়, তখন দ্রব্য দুটির একটিকে অপরটির পরিবর্তক দ্রব্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়। যেমন : মনে করি চিনির দাম যখন ২০ টাকা তখন একজন ব্যক্তি মাসে ২ কেজি গুড় ক্রয় করে। কিন্তু চিনির দাম বেড়ে ২৫ টাকা হয় তখন সে দুই কেজি গুড় ক্রয় না করে আরও বেশী গুড় ক্রয় করে (২.৫০) অর্থাৎ চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যক্তি কিছু চিনির পরিবর্তে কিছু গুড় ক্রয় করলো। অর্থাৎ গুড়কে চিনির পরিবর্তক হিসাবে ব্যবহার করল। তেমনি যদি আবার চিনির দাম ২০ টাকা থেকে কমে ১৫ টাকা হয় তবে ব্যক্তি হয়ত ২ কেজি গুড়ের চেয়ে কম গুড় ক্রয় করবে (১ কেজি)। চিনির 
দাম কমে যাওয়ায় সে একটু বেশী চিনি ক্রয় করবে। অর্থাৎ গুড়ের পরিবর্তে চিনি ক্রয় করবে। এখানে ভোক্তা চিনিকে গুড়ের পরিবর্তক হিসাবে ব্যবহার করল। এখানে চিনি ও গুড় একে অপরের পরিবর্তক দ্রব্য। এখানে দেখা যাচ্ছে যে চিনির দামের সাথে গুড়ের চাহিদার সম্পর্ক ধনাত্নক। অর্থাৎ পরিবর্তক দ্রব্যের ক্ষেত্রে একটি পণ্যের দাম ও অপরটির চাহিদার সম্পর্ক ধনাত্নক। নিচের সারণীতে চিনির দাম ও গুড়ের চাহিদার সম্পর্ক দেখানো হলো :


পরিপূরক দ্রব্য
যখন একটি দ্রব্যের ব্যবহারের জন্য অপর একটি দ্রব্যের ব্যবহার অত্যাবশ্যক হয় তখন দ্রব্য দুটির একটিকে অপরটির পরিপূরক বলে। যেমন : কালি ও কলমের কথা বলা যায়। কালি ছাড়া কলমের ব্যবহার করা যায় না, তেমনি আবার কলমের ব্যবহারের জন্য কালির ব্যবহার অত্যাবশ্যক। অর্থাৎ কালির দামের সাথে কলমের সম্পর্ক রয়েছে। নিচের সারণীতে কালির দামের সাথে কলমের চাহিদার সম্পর্ক তুলে ধরা হলো :

উপরে কালি ও কলমের আড়াআড়ি চাহিদা সূচক দেয়া হল। এই চাহিদা সূচক থেকে দেখা যায় যে, কালির দাম ও কলমের চাহিদার মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক। অর্থাৎ পরিপূরক দ্রব্যের আড়াআড়ি চাহিদা ঋণাত্নক।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন