সরকারি আয় কি?
সরকারি আয়ের উৎসসমূহ কি কি?
সরকারি আয় কি?
জনগণের উপর কর ধার্য করে এবং অন্যান্য উপায়ে যে
অর্থ সংগ্রহ করে তাকে সরকারী আয় বলে।
সরকারি আয়ের উৎসসমূহের প্রকারভেদ লিখ
সরকারী আয়ের উৎসসমূহকে দু’ভাগে ভাগ করা যায় :
ক. কর হতে আয়, খ. কর বহির্ভূত আয়।
কর হতে সরকার যে রাজস্ব সংগ্রহ করে তা কর আয় এবং অন্যান্য উৎস হতে যে আয় হয় তা কর বহির্ভূত আয়।
সরকারী আয়ের উৎসসমূহ :
কর হতে আয়ঃ
সরকারী আয়ের উৎসসমূহ আলোচনা করতে হলে প্রথমে আমাদের কর হতে আয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে। সরকারী রাজস্বের বৃহত্তম অংশ কর হতে গৃহীত। এই করের প্রদানের বিনিময়ে জনগণ কোন প্রত্যক্ষ সুবিধা দাবী করতে পারে না। সরকারী খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রাজস্ব ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বৈদেশিক সম্পদের প্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় রাজস্ব আয়ের গুরুত্ব যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের ১৯৯৭/৯৮ সালের বাজেট অনুযায়ী কর হতে মোট আয় ১৬১৫৩ কোটি টাকা।
সরকারের কর হতে আয়ের মধ্যে আয়কর, আমদানী-রপ্তানী শুল্ক, আবগারী শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক, স্ট্যাম্প বিক্রয়, রেজিষ্ট্রীকরণ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
কর বহির্ভূত আয়ঃ
কর ব্যতীত অন্যান্য উৎস হতে যে আয় হয় তাই কর বহির্ভূত আয়। ৯৭/৯৮ সাল নাগাদ বাংলাদেশে কর বহির্ভূত আয় ৩৪৭১.২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে −
ফি : সরকার কোন ব্যক্তিকে কোন বিশেষ সুবিধা দানের বিনিময়ে তার নিকট হতে যে অর্থ আদায় করে তাই ফি। যেমন − কোট ফি, রেজিষ্ট্রেশন ফি ইত্যাদি। কর ও ফি কিন্তু এক নয়। কর বাধ্যতামূলক কিন্তু ফি বাধ্যতামূলক নয়।
বাণিজ্যিক আয় : সরকারী বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যেমন − রেল বিভাগ, ডাক ও তার বিভাগ, সরকারী প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি হতে যে আয় তাই বাণিজ্যিক আয়। বাণিজ্যিক আয় সরকারী আয়ের একটি বড় অংশ।
জরিমানা : আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের কাছ হতে শাস্তিস্বরূপ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ যে অর্থ আদায় করে এই জরিমানা। কর ও জরিমানা উভয়ই বাধ্যতামূলক। তবে জরিমানা শুধুমাত্র অপরাধীদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক।
সরকারী সম্পত্তি : সরকারী সম্পত্তি যেমন − খাল, বিল, নদী, বন ইত্যাদি লীজ (ঠিকা দেয়া) দিয়ে সরকার প্রচুর অর্থ উপার্জন করে।
বিশেষ কর : যদি কোন এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ যেমন − রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ইত্যাদি সম্পাদিত হলে ঐ এলাকার জমির দাম বেড়ে যায়। এই দাম বৃদ্ধিতে জমির মালিকের কোন অবদান নেই। এই কারণে জমির মালিকের নিকট হতে যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় তাই বিশেষ কর। সুতরাং কোন উন্নয়নমূলক কর্মসূচী বাস্তবায়ন হবার ফলে যে সমস্ত ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা পায় সরকার তাদের উপর যে অতিরিক্ত কর ধার্য করে তাই বিশেষ কর।
সরকারী ঋণ : সরকারের স্বাভাবিক আয় অপেক্ষা ব্যয় বেশি হলে সরকারকে জনগণ হতে বা বিদেশ হতে ঋণ গ্রহণ করতে হয়। সাধারণতঃ জরুরী অবস্থা বা যুদ্ধ বিগ্রহের সময় এই জাতীয় ঋণ গ্রহণ করা হয়।
বিবিধ : অনেক সময় যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, পুরস্কার এবং বৈদেশিক সাহায্য প্রভৃতি হতে সররকার
প্রচুর অর্থ আয় করে থাকে।
Tags
সরকারি অর্থব্যবস্থা