অসীম অভাব ও দুষ্প্রাপ্য সম্পদ বলতে কি বুঝ??
সমাজে বস্তুগত অভাব অসীম। বস্তুগত অভাব বলতে মানুষকে আনন্দ বা তৃপ্তি দেয় এরূপ দ্রব্য অসীম অভাব
সমাজে বস্তুগত অভাব অসীম। বস্তুগত অভাব বলতে মানুষকে আনন্দ বা তৃপ্তি দেয় এরূপ দ্রব্য ও সেবাকার্য পাওয়া ও ব্যবহারের আকাংক্ষাকে বুঝায়। মানুষকে আনন্দ বা তৃপ্তি দেয় এরূপ দ্রব্য ও সেবাকার্যের তালিকা অতি দীর্ঘ। যেমন- খাদ্য, বাসস্থান, কাপড়, গাড়ী, জুতা, টিভি, চুল কাটা, সিনেমা, এখন কিডনীর পাথর, অপসারণের জন্য অস্ত্রাপচার, দেশরক্ষা ইত্যাদি। বস্তুগত অভাব অসীম। অর্থাৎ দ্রব্য ও সেবাকার্যের বস্তুগত অভাব সম্পূর্ণভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়। মানুষের কিছু অভাব পূরণ হলে আবার নতুন দ্রব্য ও সেবাকার্যের অভাব দেখা দেয়। একজন বিশেষ ব্যক্তির সবকিছু থাকা সম্ভব তবে মানুষের পুরাতন অভাব পূরণের সাথে সাথে নতুন অভাব সৃষ্টির ক্ষমতা অসাধারণ। এছাড়া সময়ের সাথে নতুন দ্রব্য প্রবর্তিত হওয়ার ফলে অভাবের পরিবর্তন হয় ও অভাব বৃদ্ধি পায়। যেমন- কিছুদিন পূর্বে স্যাটেলাইট টিভি ও স্যালুলার টেলিফোন অজ্ঞাত ছিল। কিন্তু বর্তমানে এ সবের ব্যবহারের প্রসার ঘটছে।
দুষ্প্রাপ্য সম্পদঃ
অর্থনৈতিক সম্পদ সীমিত বা দুস্প্রাপ্য। অর্থনৈতিক সম্পদ বলতে দ্রব্য ও সেবাকার্য উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক, মানব ও মানুষ নির্মিত সম্পদকে বুঝায়। যেমন- ভ‚মি ও খনিজ সম্পদ নানা শ্রেণীর শ্রম, যন্ত্রপাতি, দালান কোঠা ইত্যাদি। এসব সম্পদ সীমিত বা দুষ্প্রাপ্য। কোন কোন অর্থনীতিতে কোন কোন সম্পদ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। যেমন- আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রে ভূমি, সৌদি আরবে তেল ইত্যাদি। কিন্তু এসকল সম্পদ অসীম নয়, মোট প্রয়োজনের তুলনায়
সীমিত। দুষ্প্রাপ্য সম্পদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি ব্যবহার বা উৎপাদনের জন্য মূল্যবান সম্পদ যেমন- শ্রম, যন্ত্রপাতি, জ্বালানী ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। ফলে এই সম্পদ পাওয়ার জন্য অন্য কোন সম্পদ ত্যাগ করতে হয়। তাছাড়া এ সম্পদ অসীম পরিমাণে প্রাপ্তব্য নয়। দুষ্প্রাপ্য সম্পদ ব্যবহার করে মানুষের বস্তুগত অভাব পূরণের জন্য দ্রব্য ও সেবাকার্য উৎপাদন করা হয়। মানুষের অভাব অসীম। সম্পদের পরিমাণ প্রচুর হলেও অসীম অভাবের তুলনায় তা সীমিত বা দুষ্প্রাপ্য।
Tags
মৌলিক অর্থনীতি
