অর্থনীতি কি? ( What is Economics?)
তথা, অর্থনীতি কাকে বলে?
অর্থনীতির ইংরেজি হলো ‘ইকোনোমিকস’ (Economics); এই ইকোনোমিকস শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘ওইকোনোমিয়া’ (Oikonomia) থেকে উৎপত্তিলাভ করেছে। ‘ওইকোনোমিয়া’ অর্থ ‘গৃহ পরিচালনা’ (Household Management)। আর অর্থনীতির জনক বলা হয় অ্যাডাম স্মিথকে।
গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল বলেছেন, গৃহ পরিচালনা করার বিজ্ঞান হলো অর্থনীতি। তবে সময়ের ব্যবধানে ‘অর্থনীতি’ আর অ্যারিস্টটলের ‘গৃহ পরিচালনা করার বিজ্ঞান’র মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।
আবার বিখ্যাত পণ্ডিত কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ নামক গ্রন্থের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে; কৌটিল্য সেখানে প্রাচীনকাল হতে অর্থনীতি চর্চার কথা বলে থাকলেও আধুনিক যুগের পণ্ডিত কিংবা গবেষকগণ মনে করেন- অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে আধুনিক শাস্ত্র।
অর্থনীতির সংজ্ঞা (Definition of Economics)
বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ অর্থনীতির সংজ্ঞা বিভিন্নভাবে দিয়েছেন । এই সংজ্ঞাগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায় বলে পণ্ডিতগণ মত দিয়েছেন।
অর্থনীতির সংজ্ঞার এই তিনটি ভাগ হলো-
১. সম্পদের বিজ্ঞান (Science of Wealth)
২. কল্যাণের বিজ্ঞান (Science of Welfare)
৩. অপ্রাচুর্যের বিজ্ঞান (Science of Scarcity)
এখানে সম্পদের বিজ্ঞান (Science of Wealth) হিসেবে যারা অর্থনীতিকে অভিহিত করেছেন তাঁরা হলেন অ্যাডাম স্মিথ, ডেভিড রিকার্ডো, জন স্টুয়ার্ট মিল প্রমুখ। এই ক্ল্যাসিক্যাল অর্থনীতিবিদগণ ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকের।
অর্থনীতিকে কল্যানের বিজ্ঞান বলে যারা মত দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে প্রধান প্রধান হলেন আলফ্রেড মার্শাল। আলফ্রেড মার্শালকে আধুনিক অর্থনীতির জনক বলা হয়। এছাড়াও ফিশার, পিগু, ডেভেনপোর্ট, ক্যানন, অ্যারো প্রমুখ অর্থনীতিবিদরা অর্থনীতিকে কল্যাণের বিজ্ঞান (Science of Welfare) বলে অভিহিত করেছেন। এই শ্রেণির অর্থনীতিবিদগণকে বলা হয় নিউ ক্ল্যাসিক্যাল অর্থনীতিবিদ।
লিয়োনেল রবিন্স হলেন তৃতীয় প্রকারের সংজ্ঞা তথা অপ্রাচুর্যের বিজ্ঞান এর প্রধান প্রবক্তা। লিয়োনেল রবিন্স প্রদত্ত সংজ্ঞাটি সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত মনে করেন অনেকে। এটি ত্রুটিমুক্ত না হলেও, এর গ্রহণযোগ্যতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রফেসর লিয়োনেল রবিন্স, ক্রেয়ারন্ক্রস প্রমুখ অর্থনীতিবিদগণ অর্থনীতিকে ‘অপ্রাচুর্যের বিজ্ঞান’ (Science of Scarcity) বলে অভিহিত করেছেন।
আরও জানুন
Tags
মৌলিক অর্থনীতি